সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি পিকুল মোল্যা ও রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইশারত হোসেন গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মদনদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদনদিয়া গ্রামের ওমর ফারুক ও বাসার মাস্টার কিছুদিন আগে পিকুল মোল্লার দল ত্যাগ করে ইশারত চেয়ারম্যানের দলে যোগদান করায় শুক্রবার পিকুল মোল্লার বাড়ির সামনে দিয়ে ওমর ফারুক বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধরে মারধর করে পিকুল মোল্লা ও তার লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রবিবার সন্ধ্যায় ইশারত চেয়ারম্যানের বাবা হাজী আবুল কালাম, চাচা আজিজাল, ভাই রাকিবুল ইসলাম কুব্বত নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মিরাজ মোল্যার দোকানের সামনে পিকুল মোল্লার সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় পিকুলের নেতৃত্বে ইশারত চেয়ারম্যানের বাবা ও চাচার উপরে হামলা করা হয়। বিষয়টি ইশারত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় হাজী আবুল কালাম, আজিজাল, রাকিবুল ইসলাম কুব্বত, রব মাতুব্বর, মোশারফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এসময় ওমর ফারুক, মিরাজ, ফজলু ও বাসার মাস্টারের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়।
সালথা থানা সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৬টি টেটা, ১০টি কাতরা, ১১ টি বাঁশের লাঠি, ৫ টি ঢাল ও ১ টি রামদা উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মো. পিকুল মোল্যা, ফজলু মোল্যা, মো. সাব্বির হোসেন মোল্যা, মো. জাহাঙ্গীর মোল্যা, ইছহাক মোল্যা, ইব্রাহিম মোল্যা, মঞ্জুর মোল্যা, সেলিম শিকদার, রাশেদ মোল্যা, লুৎফর শেখ, বিকু শেখকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal