সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় ছড়িয়ে পড়ছে  গরুর লাম্পি স্কিন রোগ 

জলঢাকায় ছড়িয়ে পড়ছে  গরুর লাম্পি স্কিন রোগ 

 

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান

 

জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি

 

 

নীলফামারীর জলঢাকায় এলএসডি বা লাম্পি স্কিন রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় গরুর মালিক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়

 

খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা করছেন খামারিরা। এদিকে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এ রোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

আরো জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরেই এ উপজেলায় গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ দেখা দিয়েছে। তবে এসব গবাদি পশুকে বাঁচাতে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিংয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পেইন ও টিকাদান কর্মসূচি পালন করছে।

 

এবিষয়ে কয়েকজন গরু খামারি ও মালিক জানান, লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত গরু প্রথম দিকে কিছুই খেতে চায় না। শরীরে জ্বর আসে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। জ্বরের সাথে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়। পা ফুলা যায়। এরপর পুরো শরীরে দেখা দেয় প্রচুর গুটি বা চাকা। এতে গরুর শরীরের লোম উঠে যায় এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষত শরীরের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অনেক গরু খামারি ও মালিকরা স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের পরামর্শে স্থানীয় হাট-বাজার থেকে ইঞ্জেকশনসহ ইন্টিবায়োটিক ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ক্রয় করে এনে আক্রান্ত পশুগুলোকে খাওয়াচ্ছেন। আবার একই সাথে কাঁচা হলুদের রস ও খাবার সোডা মিশিয়ে গরুর শরীরে মালিশ করছেন।

 

সহকারী পশু চিকিৎসক আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি গ্রামে গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা দিন-রাত গরুর চিকিৎসা দিতে হাঁপিয়ে যাচ্ছি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

 

জানান, লাম্পি স্কিন রোগ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। মশা ও মাছির মাধ্যমে এ রোগ বেশি ছড়ায়। তাই আক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখার জন্য গরু মালিকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরো বলেন এ রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় গরু চাষি ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদি পশু এ রোগে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হওয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা করছেন খামারিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!