সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / সালথায় বসতবাড়ি নিয়ে বিপদে বীর মুক্তিযোদ্ধারা

সালথায় বসতবাড়ি নিয়ে বিপদে বীর মুক্তিযোদ্ধারা

 

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কমান্ডার কে এ জামান। সরকারিভাবে বীরনিবাস বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। ৯ মাস আগে ঠিকাদারের লোকজন কাজ শুরু করে। সে জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো বাড়ি। তবে দেয়াল পর্যন্ত গেঁথে বাকি কাজ অসমাপ্ত রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দেয়ালে নোনা ধরেছে, ইট ভেঙে পড়ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইউএনওকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কাজ হয়নি।

কে এ জামান ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। শুধু তিনি নন; একই অবস্থা নকুলহাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাদাত হোসেন বাদশা, যদুনন্দির মোসলেম শেখ, মাঝারদিয়ার মো. ইউনুস মিয়া, কুমারপট্টির প্রয়াত ছলেমান মাতুব্বর ও যদুনন্দির মজিবুর রহমানের পরিবারের। তাঁদের ভাষ্য, একাধিকবার কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালেও ফল মেলেনি।

সালথায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে বরাদ্দকৃত অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর আওতায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন ছয়টি বীরনিবাসের নির্মাণকাজ সাত মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীনে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য দুটি করে কক্ষ ও টয়লেট, ডাইনিং, রান্নাঘরসহ ৬৩৫ বর্গফুটের বীরনিবাস তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় সালথায় ১১টি বীরনিবাস নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রতিটি নির্মাণে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ছয়টির কাজ পায় ফরিদপুরের মাসুম ফার্নিচার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গত বছরের ৯ জুলাই কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অজুহাতে গত
২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়। তবে একটি বীরনিবাসের কাজও শেষ করতে পারেনি। ঘরের লিনটেল ও দেয়াল পর্যন্ত গেঁথে কাজ অসমাপ্ত রথে চলে গেছে। নতুন ঘরের আশায় পুরোনোটি ভেঙে ফেলায় এলোমেলো হয়ে আছে বসতবাড়ি। তাঁরা নতুন ঘরে উঠতেও পারছেন না, পুরোনোটিতেও বসবাস করতে পারছেন না।

মাঝারদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস মিয়া বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বীরনিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঘরের সব খরচ সরকার বহন করার কথা থাকলেও মিস্ত্রির খাবারের খরচ তাঁর দেওয়া লাগছে। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ বাড়ৈকে বহুবার জানালেও কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুম ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী মাহফুজুর রহমান বলেন, বীরনিবাস নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগিরই বীরনিবাসের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ বাড়ৈ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ইউএনও মো. আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, বীরনিবাসের কাজ চলতি মাসে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!