নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় মঙ্গলবার সকাল নয়টায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে নিউ লাইন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
এসময় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের চলে যেতে বলা হলে শিল্প পুলিশের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নিউ লাইন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক ও কারখানাটির আশেপাশে পাশে অবস্থান নিয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল এক ঘন্টা বন্ধ ছিলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার পর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এসময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের লাঠিচার্জ এবং শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে কারখানাটির শ্রমিক ,পথচারী ও স্থানীয় দোকানীসহ দশ জন আহত হয়েছে। পরে সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে।শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষের ভিডিও করতে গেলে পুলিশ সংবাদ কর্মীর উপরেও চড়াও হয়। শ্রমিকদের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে ২জন পুলিশসহ দৈনিক করতোয়া পত্রিকার সাংবাদিক বিএম সাঈদ আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশ কারখানা ও মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, আমরা সাধারন শ্রমিকরা গত ৩ মাসের এবং স্টাফদের ৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কিন্তু কারখানা মালিক বেতনের আশ্বাস দেওয়ার পরেও বেতন দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করি। একপর্যায়ে পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। আমাদের ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।
নিউ লাইন কারখানার জহির নামের এক শ্রমিক জানান, আমরা কয়েক মাসের বেতন পাব। কিন্তু বেতন না দিয়ে উল্টো পুলিশ দিয়ে আমাদের পিটাচ্ছে।

সুয়িং সেকশনের শ্রমিক আলেয়া খাতুন বলেন, ঘরভাড়া বাকি রয়েছে। আমরা খাইতে পারছি না। আমাদের পাওনা বেতন তারা দিচ্ছে না। আমরা আন্দোলন করছি কিন্তু পুলিশ আমাদের এভাবে মারলো। মহিলাদের এভাবে পিটাইছে, তারা পরে কি কাজ করতে পারবে।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে শিল্প ও থানা পুলিশ রয়েছে। পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করছে। এখন পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়েছে। শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহম্মেদ জানান,শ্রমিকারা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থা নিয়েছিলো। যান চলাচল বিঘ্ন ঘটায় তাদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বলা হলে তারা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়।এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal