নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে রোববার বিকেলে ভুল চিকিৎসায় আরিফা আক্তার (১৩) নামের এক নারী শিক্ষাথর্ী ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরিফা আক্তার নামের এই রোগি দুপরের পর মাথা ব্যথা নিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।
এসময় এ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ হোসনি আমিন দোলন রোগিকে প্রাথমিক দেখে ৭-৮টি চেষ্ট দেন। এসময় রোগির স্বজনরা সব চেষ্টা করে সেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছে কিছু ঔষধ ও শরীরে সেলাইন পোশ করেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগি আরিফা আক্তারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করে দায়িদের শাস্তি দাবী করেন।
এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সুকৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় বলে হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক কর্মচারীরা জানান। নিহত আরিফা আক্তার কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার পাটুয়ারি পাড়া গ্রামের আলমের মেয়ে। সে সিনাবহ গ্রামের খন্দকার পাড়া কিন্ডার গার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।
নিহত আরিফার স্বজন,পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার সিনাবহ খন্দকার পাড়া এলাকার নওশের আলী ভাড়াটিয়া বধির আলম হোসেন ও মেয়ের জামাতা হিমেল হোসেন গত শুক্রবার ও শনিবার আরিফা আক্তারকে
মাথা ব্যথা নিয়ে তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা করার জন্য নিয়ে আসেন। এসময়
কর্তব্যরত মোহাম্মদ হোসনি আমিন দোলন কিছু ঔষধ লিখে দেন। হাসপাতালের ফার্মিসি থেকে ঔষধ নিয়ে বাসায় চলে যায়। পরের দিন শনিবার আবার মাথা ব্যথা বেড়ে গেলে আবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে ৭-৮টি চেষ্ট করার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দেন। রোগির স্বজনরা হাসপাতাল থেকে সকল চেস্টা সেম্পল
দিয়ে আবার বাসায় চলে যায়। রোববার দুপুরের পর টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে আবার হাসপাতালে এলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের কর্মরত সেই চিকিৎসক মোহাম্মদ হোসনি আমিন দোলন তার হার্টের চিকিৎসা শুরু করেন।
চিকিৎসক মোহাম্মদ হোসনি আমিন দোলন কিছু ঔষধ খাইয়ে দিয়ে
হাসপাতালের বিছানায় শুইয়ে রাখেন। কিছুক্ষণ পর রোগি আরিফা আক্তার অবস্থা অবনতি হতে থাকলে তার শরীরে একটি সেলাইন পুশ করেন। সেলাইন পুশ শেষ হতে না হতেই রোগির মৃত্যু হলে তড়িঘড়ি ঘরে হাসপাতালের মালিক ডা. কামরুল হাসান নির্দেশে ম্যানেজার গোলাম মোস্তাফা, চিকিৎসক মোহাম্মদ হোসনি আমিন
দোলন রোগির স্বজনকে ডেকে রোগির অবস্থা ভাল নয় জানিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতে অনুরোধ করেন। পরে একটি রোগিবাহি গাড়ী এনে নিহত আরিফাকে তুলে ঢাকায় প্রেরণের চেষ্টা করেন।
এসময় রোগির বড় বোন জামাই হিমেল হোসেন আরিফার হাতে রক্ত সঞ্চালন দেখে বুঝতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন মৃত রোগি কেন ঢাকায় পাঠাবেন।
পরে রোগিবাহি গাড়ীটি হাসপাতালের সামনে রেখেই কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীরা হাসপাতালের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দোষি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নিহত আরিফা খাতুনের বড় বোন জামাই হিমেল হোসেন জানান, আমার বোনকে ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছে। মাথা ব্যথার রোগিকে মিথ্যা টেষ্ট করে হার্টেও রোগ ধরে ভুল ঔষধ খাইয়ে মেরেছে। আমি এর বিচার চাই। তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের ম্যানেজার গোলাম মোস্তাফা জানান, হার্টে সমস্যা জনিত কারণে রোগি মারা গেছে। ভাই নিউজ করিয়েন না। পরে দেখা করবো।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ সাইফুল আলম জানান, রোগির স্বজনরা অভিযোগ দিলে হাসপাতালে এঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা
হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal