সর্বশেষ :
Home / লিড নিউজ / কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যু ,মামলার বাদীর বিচারের দাবীতে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যু ,মামলার বাদীর বিচারের দাবীতে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ রোববার রাতে নেহাল উদ্দিন (৬৫) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়। এঘটনায় নিহতের লাশ কালিয়াকৈরের বাগচাপাইর গ্রামের বাড়ীতে সোমবার বিকেলে পৌছালে শত শত গ্রামবাসী হাজির হয়ে মামলার বাদী শিপন মিয়ার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করেন। এসময় নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসী ক্ষোভে বাদীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত নেহাল উদ্দিনের নামাজে জানাজা দিতে বাধা দেন বলে গ্রামবাসী জানান। তিনি বাগচাপাইর গ্রামের কানু মিয়ার ছেলে। নেহাল উদ্দিন পেশায় একজন মুদি দোকানদার ছিলেন।

কাশিমপুর কারাগার,এলাবাসী ও পুলিশ জানান, উপজেলার বাগচাপাইর গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে শিপন মিয়া তার তৃতীয় শ্রেণি পড়–রা ছোট বোনকে গত ৬ নভেম্বর সকালে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মুদি দোকানদার কানু মিয়ার ছেলে নেহাল উদ্দিনকে (৬৫) মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন।

এসময় গ্রামবাসী নেহাল উদ্দিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার কওে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় ওই দিনই শিপন মিয়া বাদী হয়ে তার ছোট বোনকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার হওয়ার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ নভেম্বর অসুস্থ অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। জেলা কারাগার থেকে এক সাপ্তাহ পরেই কাশিমপুর কারাগারে বন্ধি নেহাল উদ্দিনকে প্রেরণ করেন। কাশিমপুর কারাগার-১ এ গত রোববার রাতে নেহাল উদ্দিন মারা গেলে নিজ গ্রাম বাগচাপাইরসহ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিকেলের দিকে নিহত নেহাল উদ্দিনের লাশ গ্রামের বাড়ীতে পৌছালে শত শত গ্রামবাসী নিহতের বাড়ীতে ভীড় করেন। এসময় চাপাইর ইউপি (৯নং ওয়ার্ড) সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মিথ্যা মামলার বাদী শিপন মিয়ার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করেন। এসময় বাদীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিহত নেহাল উদ্দিনকে জানাজা বাধা দেন।

নিহতের নাতি রাকিব মিয়া জানান, আমার দাদাকে বিনা দোষে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেয়। আমার দাদা নেহাল উদ্দিনকে মারধরের কারনেই কারাগারে মারা গেছে। আমরা মিথ্যা মামলার বাদীর বিচার দাবী করছি।

চাপাইর ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, একই এলাকার যুবক শিপন মিয়া মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে মুদি দোকানদার নেহাল উদ্দিনকে মারধর করে। পরে মিথ্যা মামলা দিলে পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আমরা বাদীর বিচার ও গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তার লাশ কবর দিতে দেওয়া হবে না।

এ রিরোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৭টার পর্যন্ত গ্রামবাসী ও নিহতের স্বজনরা নেহাল উদ্দিনকে জানাজা দিতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ জানান, রোববার রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুর তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নেহাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে বন্দি নেহাল উদ্দিন। এ সময় তাকে কারা হাসপাতলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মারা যান। কালিয়াকৈর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলায় ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর থেকে তিনি এ কারাগারে বন্দি ছিলেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আমিরুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মোঃ আকবর আলী খান জানান, কাশিমপুর কারাগারে মৃত নেহাল উদ্দিনের লাশ জানাজায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এরকম কোন তথ্য নেই আমার কাছে। এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি। তবু খোঁজ খবর নিয়ে জানার চেস্টা করছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!