কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ভুয়া ডাক্তার পদবি ব্যবহার কারীদের সংখ্যা।
সে সকল ভুয়া ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন করা ওষুধ সেবন করে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।
২০২০ সালের ১৯শে নভেম্বর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে বলেন,এমবিবিএস–বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।
তার পরেও হাইকোর্টের সেই রিট উপেক্ষা করে উপজেলার অনেক ফার্মেসির গ্রাম্য ডাক্তার ডিগ্রিধারীরা নিজের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসি ও মেডিসিন কর্ণার ঘুরে দেখা গিয়েছে ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রয়ের জন্য গ্রাম্য ডাক্তারের ট্রেনিং নিয়ে ওষুধ বিক্রিয়ের পাশাপাশি কেউ কেউ নিজের নামের পাশে ডাক্তার পদবি লাগিয়ে ব্যাক্তিগত চেম্বারে একের পর এক রোগী দেখে লিখছেন ব্যবস্থাপত্র।কেউ কেউ আবার দ্রুত রোগ থেকে সেরে উঠার জন্য রোগীর চিকিৎসায় ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছেন উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক।
তেমনই একজন ভূয়া ডাক্তার পদবি ধারী ফার্মেসিস্ট এর সন্ধান পাওয়া গেল উপজেলার মৌচাক জামতলা বাজার এলাকার মা মেডিসিন কর্ণারের ওষুধ বিক্রেতা ডা.মোঃ রওশন-উদ্-দৌলা। তিনি তার নামের পাশে আরো লাগিয়েছেন, ডি.এ.এম.এস, ডি.ইউ.এম.এস, এম.সি.এইচ, সি.ডি.টি, ও সি.পি ডিগ্রি । এমনকি মা ও শিশু, চর্ম ও যৌন সহ সকল রোগের অল্টারনেটিভ মেডিসিন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও তিনি। সরোজমিনে শনিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায় তিনিও তার ব্যাক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এমনকি সামান্য জ্বরে আক্রান্ত রোগীকেও উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপত্রে লিখতে দেখা গিয়েছে।
জ্বর সর্দি আক্রান্ত রোগী নাজমুল হোসেন জানান,আমি সামান্য জ্বর সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে ফার্মেসিতে এসেছি। এখানে দেখতে পেলাম যিনি ওষুধ বিক্রি করছেন তিনি আবার রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছে।আমাকে জ্বর সর্দি থেকে দ্রুত সেরে উঠার জন্য উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক লিখে দিয়েছেন ব্যবস্থাপত্রে।
গ্রাম্য ডাক্তার ডিগ্রিধারীদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে রোগী দেখার প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মকর্তা আল-বেলাল জানান,এ বিষয়ে অভিযান পরিচলনা করা হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal