হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরশহর এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের অসহনীয় যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের, কিন্তু তা নিরসনে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ । প্রতিদিন দেশের তিনটি স্থল বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাকসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শত শত যানবাহন চলাচল করলেও অব্যবস্থাপনার কারণে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। জলঢাকা পৌরশহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, এই শহরের প্রধান দুটি সড়ক হচ্ছে ডোমার – ডিমলা জলঢাকা, আর ডালিয়া – জলঢাকা। আর এ দুটি সড়ক ব্যবহার করে পাটগ্রাম-বুড়িমারী, চিলাহাটি ও বাংলাবান্দা স্থলবন্দরের যানবাহন যাতায়াত করে। এছাড়া ডালিয়া, ডোমার, ডিমলা,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী শত শত যানবাহন এই পথেই চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুপাশ প্রশস্ত না হওয়ায় এবং রাস্তায় দুই পাশে যত্রতত্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও প্রধান সড়ক দুইটির দুই ধারে ফুটপাত ব্যবস্থা না থাকায় হকাররা সড়কের ওপরই শাক-সবজি ও ফলমূলের দোকান নিয়ে বসছেন। ভ্যান, অটোরিকশা বা সিএনজির জন্য নির্ধারিত কোনো পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় চালকরা যত্রতত্র গাড়ি রাখছেন এলোমেলো ভাবে। ফলে প্রতি মুহূর্তে যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। আর সন্ধ্যার পর দূরপাল্লার ভারী ট্রাক ও বাসের চাপে প্রধান সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সীমিত জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পৌরবাসী আজিজার রহমান সহ অনেকেই জানান, শহরের প্রধান সড়ক দুইটি বর্তমানে দুই লেনের, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু। দ্রুত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই দুই সড়কটিকে চারলেনে উন্নীত করা এবং অবৈধ দখল দারদের উচ্ছেদ করে যানজটমুক্ত শহর গড়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, যানজট নিরসন ও উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও বাজার উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যানবাহনের জন্য সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal