নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কবর খুড়ে মায়ের লাশ তুলে নিজের ঘরে
নিয়ে মশারী টানিয়ে লেপ-কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখেছে তার ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, ফাঁসিতে ঝুলে নিহত মাকে কবর দেওয়ায় স্বজনসহ প্রতিবেশীদের খুন-জখমের হুমকিও দিচ্ছে ওই মাদকাসক্ত ছেলে। সোমবার সকালে এ ঘটনাটি জানাজানি হলে
কৌতুহলের পাশাপাশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
এ থেকে পরিত্রাণ চান স্বজনসহ এলাকাবাসী। নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মোথাজুরী এলাকার মৃত আনতাজ আলী খানের স্ত্রী খোদেজা বেগম।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,
কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মোথাজুরী
এলাকার খোদেজা বেগম তার স্বামী আনতাজ আলীর মৃত্যুর পর
একমাত্র ছেলে সজিব হোসেনকে বসবাস করে আসছিলেন।
কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের সজিব মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে মা
খোদেজার সঙ্গে ছেলে সজিবের সঙ্গে মাঝে মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ
হতো। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার তাদের মা-ছেলের মধ্যে
ঝগড়া-বিবাদ হয়। ওইদিন বিকেলে ছেলের সঙ্গে অভিমান করে
ফাঁসি দেয় মা খোদেজা বেগম।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে পরের দিন রবিবার সন্ধ্যায় জানাযা নামাজের পর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তার মাকে দাফন সম্পূর্ণ করে স্বজনসহ এলাকাবাসী।
কিন্তু রাতের কোনো এক সময় ওই মাদকাসক্ত ছেলে সজিব কবর
খুড়ে তার মায়ের লাশ তুলেন। পরে মায়ের লাশ তার নিজের ঘরে নিয়ে মশারী টানিয়ে লেপ-কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন। পরের দিন
সোমবার সকালে ওই কবরস্থানে তার মায়ের কবর খুড়া দেখতে পেয়ে
সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। এরপর তারা ওই কবরস্থানে গিয়ে দেখেন
সেখানে তার লাশ নেই। এসময় লোকজন দেখে ওই মাদকাসক্ত ছেলে
সজিব দৌড়ে পালিয়ে যান। এতে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়
এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় সজিবের ঘরের তালা ভেঙ্গে ফেলে এলাকাবাসী। এসময় তারা ওই ঘরের ভেতর মশারীর নিচে লেপ-কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখা তার মায়ের লাশ দেখতে পান।
ওই লাশ থেকে দুর্গন্ধও বের হচ্ছে। এর আগে ওই রাতে তার মামা
আব্দুল মান্নান মিয়ার মোবাইলের ফোন দেন সজিব। ফোনে তার
মাকে কেন মাটি দিলেন? জানতে চান তিনি। এসময় তার মাকে
কবর দেওয়ায় তাদের খুন-জখমের হুমকিও দেন মাদকাসক্ত ছেলে
সজিব। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তাদের স্বজনসহ ওই
এলাকায় মানুষ।
এ ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই লাশ দেখতে সেখানে ভীড় করে আশপাশের কৌতুহলী মানুষ। ওই মাদকাসক্ত ছেলের এমন কর্মকান্ড থেকে পরিত্রাণ পেতে কালিয়াকৈর থানায়
গিয়ে পুলিশের সহযোগীতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।
পরে দুপুরে ওই নিহত খোদজা বেগমের লাশ পুনরায় দাফন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই মাদকাসক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। নিহতের বড় ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, খোদেজাকে দাফন করায় ফোনে আমাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়েছে। এতে আমি ও
আমার পরিবার আতঙ্কে আছি। ওই এলাকার আব্দুল বারেক জানান, দুদিনের লাশ তার ছেলে উঠানোর কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
আজকে পুনরায় নিহতের লাশ দাফন করা হয়েছে। কিন্তু ওই লাশ যদি আবার উঠায় তাহলে দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ঠ হয়ে যাবে। তবে এসব
থেকে পরিত্রাণ চান স্বজনসহ এলাকাবাসী। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, ওই ছেলেটি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তার মায়ের সঙ্গে মাঝে মধ্যে ঝগড়া হতো।
ওই দিন তাদের মা-ছেলের ঝগড়ার জেরে তার মা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশের দাফন
হলেও রাতে সে একাই লাশটি তুলে তার ঘরে মশারী টানিয়ে লেপ-
কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে ওই ছেলে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি
হয়েছে।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের
ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ জামান বিষয়টি
নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দুপুরে
নিহতের লাশ পুনরায় দাফন করেছেন।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal