হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান নীলফামারী প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নীলফামারীর জলঢাকা -৩ সংসদীয় আসন। এই উপজেলায় জোরেশোরে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক বছর আগেই শুরু হয়েছে দলীয় সম্ভব্য প্রার্থীদের প্রচারণা ও মনোনয়নের লড়াই। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিরবে গণসংযোগের পাশাপাশি সভা-সমাবেশ। এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা প্রতিদিনই গনসংযোগ সহ সভা সমাবেশের মাধ্যমে ব্যাস্ত সময় পার করছেন সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী নাই। এদিকে এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে তারা অতটা সরব না হলেও নীরবে গণসংযোগ করছেন।
নীলফামারীর জলঢাকা -৩ আসনটি
জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত । তবে এই আসনে বিএনপিও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে এ আসনটিতে বিগত নির্বাচনে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে। তাই বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই মনে করে ,আসন্ন সংসদ নির্বাচন সহজ হবে না কারও জন্যই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনে বর্তমানে বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ আলী,
জামায়াত ইসলামীর ঘোষিত প্রার্থী
মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, ইসলামী আন্দোলন এর আমজাদ হোসেন সরকার, জাতীয় পার্টির রোহান চৌধুরী, গন অধিকার পরিষদের সোহাগ হোসাইন এর প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে নিজ নিজ সংগঠন। তবে অন্যান্ন দলের প্রভাবশালী সম্ভাব্য প্রার্থীও রয়েছেন। তারা ইতোমধ্যে প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ দিকে কয়েকটি দলের মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার এলাকায় দেখা গেলেও মাঠে এতটা সক্রিয় নন তারা।
এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলী বলেন, আমি
রাজনীতি ছাড়াও মানবতার সেবা করে আসছি। তাই আগামীতে আরো বেশী করার জন্য দলের উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা বলেই এলাকায় কাজ করছি। দল ও এলাকার সেবা করতেই মাঠে নেমেছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। তিনি আরও বলেন এলাকার যোগাযোগ
ব্যাবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়া কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ওবায়দুল্ল্যাহ সালাফি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন। রাস্তাঘাটে তার ব্যানার-পোস্টার দেখা যায়।
তিনি বলেন, ‘সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। দলের দুঃসময় আমি মাঠে ছিলাম। দলীয় আদর্শ ধারণ করি বলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। আমি সিন্ডিকেটের রাজনীতি করি না। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করি বলেই দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে। এদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে সুনাম রয়েছে তার।
বিএনপি সমর্থকরা জানান,
আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর মূল শক্তি এলাকার ভোট ব্যাংক।তিনি বিগত ২২ বছর ধরে এই এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন, বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শক্ত ভিত গড়তে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। দলের নেতা কর্মীদের পাশে থেকে এবং নিজের মতো করে এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকার সময় উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত রোহান চৌধুরী নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপ জেলা শাখার সভাপতি আমজাদ হোসেন সরকার জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমাকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দিয়েছে ।তাই আমি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য কাজ করছি। আমি যদি বিজয়ী হই তাহলে এলাকার উন্নয়ন করবো।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal