সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / বিয়ের পর স্বামী পলাতক, শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেওয়ায় তরুণীকে হাতুড়িপেটা

বিয়ের পর স্বামী পলাতক, শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেওয়ায় তরুণীকে হাতুড়িপেটা

 

 

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় বিয়ের পর বাসর রাত কাটিয়ে পরদিন শ্বশুরবাড়িতে নববধূকে রেখে পালিয়ে যান স্বামী। এরপর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। তবে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. দুলাল শেখের ছেলে নিশাত শেখ। আর ভুক্তভোগী তরুণী পাশের সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের সিদ্দিক সর্দারের মেয়ে মোর্শেদা খানম।

 

মোর্শেদা খানম অভিযোগ করে বলেন, ‘নিশাতের সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয়। এরপর টানা ৯ মাস প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সুবাদে নিশাত মাঝেমধ্যে আমাদের বাড়িতে আসত। এরপর গত ৯ এপ্রিল তার সম্মতিতে আমাদের বাড়িতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আমার সঙ্গে বাসর রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে আমাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে। এরপর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। অবশেষে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে স্বামীর স্বীকৃতি পেতে গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে আমি আমার স্বামীর বাড়িতে চলে আসি। আমি এখানে এসে বাড়ির সবাইকে বলি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে, আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। এ কথা শুনে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে এসে আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

 

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়দেব কুমার সরকার বলেন, ‘মোর্শেদা নামের এক তরুণী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আমরা প্রকাশ করব না। যদি ওই তরুণীর পরিবার আইনি আশ্রয় নেয় তাহলে লিখিতভাবে সব তথ্য দেওয়া হবে।’

 

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘ট্রিপল নাইন নম্বরে ফোন করে বিষয়টি আমাদের জানান ওই তরুণী। তবে তিনি লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি।’

 

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। তবে অভিভাবক ছাড়া ওই তরুণীর পরিবার কিভাবে একটা অপ্রাপ্ত বয়সী ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দিল, এটাও দেখার বিষয়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি ওই তরুণীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;