জসীম উদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও
বুধবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ করেই দলীয় সাইনবোর্ডের পরিবর্তে ঝুলছিল কৃষি অফিসের সাইনবোর্ড। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই সাইনবোর্ড আর দেখা যায়নি। কিন্তু কে এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছে তার খবর কেউ জানাতে পারেনি। এমনকি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর থেকেই তুমুল আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে। দলীয় কার্যালয়ে এমন সাইনবোর্ড দেখে ক্ষুব্ধ হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ কারণে বুধবার রাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলটির জেলা সভাপতি তৈমুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গত শনিবার বিকেলে রুহিয়া থানা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ও থানা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার তিনদিন পর কৃষি বিভাগের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায় বিএনপি কার্যালয়ে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান বলেন, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অফিসটি আমরা ব্যবহার করে আসছি। আব্দুল জব্বার চৌধুরীর দান করা নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় অফিসটি। গত শনিবার রুহিয়ার দলীয় কার্যালয় ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আওয়ামীলীগ। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে বুধবার সকালে দেখি সেই কার্যালয়ে সামনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রুহিয়া শাখার একটি সাইনবোর্ড। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের সাথে কথা জেনেছি তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে সেই সাইনবোর্ড আর দেখা যায়নি। তার দাবি, যারা এমন কাজ করে দলের ভামূর্তি নষ্ট করেছে তাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় বলেন, কৃষি বিভাগের স্থাপনা আছে। কৃষি বিভাগ বিএনপির অফিসের সামনে কোন সাইনবোর্ড লাগায়নি বা তুলেও নেয়নি। এ ধরনের সাইনবোর্ড দেওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই।
রুহিয়া থানার ওসি সোহেল রানা জানান, বিএনপি অফিসের সামনে কারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছিল আবার সেটি তুলে নিয়েছে এটা তার জানা নেই। এটা কৃষি সম্প্রসারণের বিষয় যে তাদের জায়গা সেখানে আছে কিনা তাও জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি অফিসের জমি দাতা আব্দুল জব্বার চৌধুরীর ছেলে জেলা যুবদলের সভাপতি মহেবুল্লাহ্ আবু নুর চৌধূরি বলেন, প্রায় ২৬ বছর আগে নিজস্ব সম্পত্তি বাবা দান করেন বিএনপির অফিস করার জন্য। পাশে আমাদের আরও জমি রয়েছে। তাই বিএনপি অফিসে সাইনবোর্ড কারও লাগানোর সুযোগ নেই। রাজনীতিকে সরকারিভাবে প্রভাবিত করতে একটি মহল এ কাজ করছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal