কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়ক এখন মোটরসাইকেল আরোহীদের মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের কাটা রাস্তা এখন মোটরসাইকেল আরোহীদের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গাজীপুর সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রতিদিনই ওই সড়কে বাড়ছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। এতে কেউ প্রাণ হারাচ্ছে আবার কেউ বা পঙ্গুত্ব বরণ করছে। দীর্ঘদিন মহা সড়কে এমন ঘটনা চলতে থাকলেও আমলে নিচ্ছে না গাজীপুর সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ । আর এ কারণে মহা সড়কের কাটা রাস্তায় নতুন করে বলি হলো রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক গৃহিনীর।
তিনি বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুরের দিকে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়কের মোড়ল বাড়ী ও ফকির বাড়ির মাঝখানের কাটা রাস্তার বালীগাঁও নামকস্থানে এ সড়ক দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হন।
গৃহবধূর নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম। নিহত রোকসানা কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়পাড়া গ্রামের মনির খন্দকারের স্ত্রী। মনির খন্দকার কালীগঞ্জ পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক।
এসআই বলেন, দূর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথাও বলেছি। তারা জানান, কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়কের বিভিন্নস্থানে কাটা রাস্তা থাকার কারণে প্রায়ই মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, দুপরে ওই সড়ক দিয়ে মনির খন্দকার স্ত্রী রোকসানাকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মিরেরবাজার যাচ্ছিলেন। এই সময় বাইপাস সড়কের মোড়ল বাড়ি ও ফকির বাড়ির মাঝখানে বালীগাঁও নামকস্থানে আসলে কাটা রাস্তায় ঝাকুনি খেয়ে পিছনে থাকা স্ত্রী সড়কে পড়ে যায়। এতে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত অবস্থায় রক্তক্ষরণ হয়ে গৃহিনী রোকসানা ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নিহত রোকসানার স্বামী মনির খন্দকার বলেন, বোনের শ্বাশুরির মৃত্যুর খবর শুনে দুপুরের দিকে জানাযায় অংশ গ্রহনের জন্য স্ত্রীকে নিয়ে মিরেরবাজার যাচ্ছিলাম। পথে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়কের মোড়ল বাড়ী ও ফকির বাড়ির মাঝখানের কাটা রাস্তার বালীগাঁও নামকস্থানে মোটরসাইকেলের পিছন থেকে আমার স্ত্রী পড়ে যায়। এ সময় পিছন দিক থেকে আসা দ্রæত গতির একটি কাভার্ডভ্যান আমার স্ত্রীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।
কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত নাজমুল হাসান সুমন জানায়, গত ১০ এপ্রিল অফিস শেষ করে বাঘেরপাড়া নিজ বাড়ি ফেরার পথে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়কের বালীগাঁও মোড়লবাড়ী নামকস্থানে গাজীপুর সওজ কর্তৃপক্ষের কেটে রাখা রাস্থায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে তার হাতে, পায়ে ও কোমড়ে মারাত্মকভাবে জখম হয়। দীর্ঘদিন বিশ্রামের পর কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও কোমড়ের ব্যাথা যায়নি তার।
স্থানীয় গণামধ্যমকর্মী কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, গত ২৯ এপ্রিল পেশাগত দায়িত্ব পালন করে রাত ১০টার দিকে বাড়ী ফেরার পথে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল-নরসিংদী বাইপাস সড়কের বালীগাঁও মোড়লবাড়ী নামকস্থানে সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হই। ভাগ্য ভালো হওয়ায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই। তবে দূর্ঘটনায় হাতে, পায়ে ও মাথায় আঘাত পাই। এখনো পর্যন্ত আমার হাত নাড়াচড়া করতে পারছিনা। বাড়িতে পুরোপুরি বিশ্রামে আছি।
ওই গণামধ্যমকর্মী আরো বলেন, গাজীপুর সওজ কর্তৃপক্ষের কেটে রাখা রাস্তা এখন স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহীদের মরণ ফাঁদ। প্রতিদিনই একাধিক মোটরসাইকেল সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যে কারণে মহা সড়কের কাটাস্থানগুলোতে প্রতিদিনই প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার শরিফুল আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal