নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হিজলহাটি এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিনকে হাতুরিপেটা করে গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় প্রতিপক্ষরা তার প্রাইভেটকারে থাকা ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।গুরুতর আহত এ সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিন (৩০) ও যুবলীগ কমর্ী আরিফ মুন্সিকে (৩২) উপজেলা স্বাস্থ্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এঘটনায় এখনো কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানায়।
এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মীরা ও পুলিশ জানায়, গত চার বছর ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিন আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটাবহ ইউনিয়নের হিজলহাটি এলাকার পলমল নামক একটি পোশাক তৈরি কারখানার পরিত্যক্ষ মালামাল ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছিল। সেই সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিন ও পৌর ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ মুন্সি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিত্যক্ত মালের জন্য নগদ ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে সেই কারখানা যেতে থাকে। ছাত্রলীগের এই সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিনের প্রাইভেটকারটি হিজলহাটি বাজারের কাছে পৌছালে আশুলিয়া থানা শিমুলিয়া ইউপি যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন মৃধা ও কিশোর গ্যাং লিডার ফয়সাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটর সাইকেল একযোগে প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। পরে প্রাইভেটকার থেকে নাজমুল ও আরিফকে টেনে হেঁচরে নামিয়ে এলোপাথারিভাবে মারধর করতে থাকে। এসময় নাজমুল হাসান হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পাশের একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিলে ফয়সাল হোসেন নামের কিশোর গ্যাং লিডার হাতুরি দিয়ে ৭০-৮০টি আঘাত করে।

আহত ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিন
নাজমুলকে এভাবে বেধরক মারপিঠের ভয়ে আরিফ মুন্সি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে আত্ন রক্ষা করেন। এসময় হামলাকারী সুমন মৃধা ও ফয়সাল হোসেনের মারধর ও হাতুরি পেটায় অজ্ঞান হয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। এসময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় নাজমুল হাসান তুহিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। সেখানে সন্ধ্যার দিকে নাজমুলের অবস্থার অবনতি হলে ফজিতুননেছা মুজিব কেপিজে বিশেয়াতি হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে ভর্তি করেন।
আহত সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান তুহিন জানান, আমি গত চার বছর ধরে পলমল নামক পোশাক তৈরির কারখানার পরিত্যক্ত মালামাল ক্রয় করে ব্যবসা করে আসছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী কলেজ শাখার সভাপতি মামুন মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আজাদ কামাল সোহানসহ আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউপি যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদব সুমন মৃধা, কিশোর গ্যাং ফয়সাল হোসেন, শাহেদ মিয়া, আবুল কালাম, মেহেদী হাসান, সৌরভ হোসেন, সুরুজ মিয়া আমার ব্যবসায় প্রদিবন্ধকতা করে আসছিল। আজ চলতি মাসের মালের টাকা কারখানায় দিতে যাওয়ার পথে ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীরা আমাকে ও আমার সঙ্গী আরিফ মুন্সিকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে।
অভিযুক্ত সুমন মৃধা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা অশ্বীকার করে বলেন,ঘটনাটি শুনেছি। তবে ব্যবসা সংক্রান্ত জটিলতায় গন্ডগোল হয়েছে।
আহত সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান এর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার ছেলেকে যারা হাতুরি পেটা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবী করছি।
কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবির বলেন, বিষয়টা আমি জানতে পেরেছি। যারা এধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে আইন শৃংখলা বাহিনীকে বলব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে। তাছাড়া তারা যদি দলের কেউ হয়ে থাকে তাদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী খাঁন জানান, এঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কওে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal