সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / ঠাকুরগাঁওয়ে শখ থেকে পাখি পালন, তামিমের বছরে আয় লক্ষাধিক টাকা!

ঠাকুরগাঁওয়ে শখ থেকে পাখি পালন, তামিমের বছরে আয় লক্ষাধিক টাকা!

 

জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই শখ করে পালন শুরু করেন। এই শখে পালন করাই এখন বাণিজ্যিক রূপ ধারন করেছে। বর্তমানে তা আয়ের উৎসে পরিনত হয়েছে। বলছিলাম পাখি খামারি তামিম আহমেদের কথা। তিনি বাড়ির ছাদে পাখি পালনে সফল হয়েছেন। এই খামার থেকে বছরে লাখ টাকা আয় করতে পারেন তিনি।

জানা যায়, খামারি তামিম আহমেদ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌর শহরের বাসিন্দা। তিনি শখ করে পাখি পালন শুরু করেন। বর্তমানে তা খামারে পরিনত হয়েছে। খামারে তার এমন সফলতার কারণে এলাকায় তিনি “পাখি তামিম” নামে পরিচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৫০ জোড়া পাখি রয়েছে। এর থেকে বছরে লাখ টাকা আয় করতে পারেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, তামিমের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন খাঁচায়, পাতিলে বাসা করে পাখিগুলো পালন করছেন। পাখির খাঁচাগুলো সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো। তার খামারে লাভবার্ড, কাকাতুয়া, ফিঞ্চ, দেশি-বিদেশি কবুতরসহ প্রজাতির অসংখ্য পাখি রয়েছে। কিছু উড়াউড়ি করছে, কিছু ঘর বানাচ্ছে। পাখির খামারের পাশাপাশি তামিম মাছও চাষ করেন।

 

পাখিপ্রেমী তামিম হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার পাখির প্রতি আলাদা টান ছিল। ভালোবাসা থেকেই শখের বশে পালন শুরু করি। তারপর অল্প পরিসরে খামার করা শুরু করি। শখে পালন এখন ব্যবসায় পরিনত হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, আমি ২০১৪ সালে বাড়িতে ২টি বাজরিগার পাখি এনে একটি খাঁচায় পালন করি। এইগুলো থেকে বাচ্চা জন্ম নিলে খামার করার পরিকল্পনা করি। তারপর ২০১৮ সালে বগুড়া থেকে আরো ১৮ জোড়া পাখি নিয়ে এসে সেট তৈরী করে পালন শুরু করি। পাখিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করলে সংখ্যা বাড়তে থাকে।

 

তামিম আরো বলেন, বর্তমানে আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির ৫০ জোড়ার বেশি পাখি রয়েছে। দিন দিন এর সংখ্যা আরো বাড়ছে। পাখিগুলোকে খাবার হিসেবে প্রতিদিন কাউন, ভাত, খিচুড়ি, কুসুম দানা, কাঁচা বুট, সবজি দিয়ে থাকি। খামারটি করতে আমার ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন বছরে লাখ টাকা আয় করতে পারি। খামার আরো বড় করার পরিকল্পনা করছি।

 

পাখি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, আমরা শুনেছি তামিম ভাই তার খামারে বাজরিগার পাখির পালন করেন। তাই কিনে নিতে এসেছি। তার পাখির খামারটি দেখে অনেক ভালো লাগল। অনেক রকমের পাখির সমাহার তার খামারে। তার থেকে পরামর্শ নিয়ে অনেকেই খামার করায় আগ্রহী হচ্ছেন।

 

রানীশংকৈল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মৌসুমী আক্তার বলেন, তামিম আহমেদের খামার সম্পর্কে আমরা শুনেছি। পাখির খামারকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা তাকে সহযোগিতা করবো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;