
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
নীলফামারী, প্রতিনিধি
বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হটাৎ করে শুষ্ক মৌসুমে উজানের ঢল নেমেছে উত্তর জনপদের তিস্তা নদীতে।
মেঘ বৃষ্টি ছাড়াই এমন পানির ঢলে তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরের জমিতে আবাদ করা মৌসুমের বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন চরবাসী।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, সচারচর এই সময় উজানের পানির ঢল আসার কথা নয়। কিন্তু শনিবার (১৫ ফেব্রয়ারি) দুপুরের পর পানি বাড়তে বাড়তে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হু-হু করে ঢল নেমে আসছে। ফলে সেচ কাজের জন্য নীলফামারীর ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট বন্ধ রাখা হলেও তা ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ পানির চাপে প্রথমে ৬টি ও পরে আরও ১০টি জলকপাট খুলে দেয়।
এদিকে রাতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৩০টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানায় ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫০ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৬টায় পানি পরিমাপ করা হলে বুঝা যাবে কত পরিমান পানি তিস্তায় এসেছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝাড়শিঙ্গেশ্বর চরের বাসিন্দা আছির উদ্দিন (৬৫) জানান, হঠাৎ করে তিস্তায় ঢল নেমে চরের ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এতে চরের জমিতে থাকা বোরো, গম, আলু, মরিচ, বাদাম তলিয়ে যেতে পারে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে চরবাসীদের।
একই কথা বলছেন ডিমলার চরখড়িবাড়ি গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন(৫০)। তিনি জানান শুস্ক মৌসুমে উজান থেকে এমন পানির ঢল তিস্তায় এর আগে দেখিনি। এদিকে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির ব্যানারে আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা নদীবেষ্টিত নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি পয়েন্টে দুই দিনব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি করবে বিএনপি।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal