হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
নীলফামারী প্রতিনিধি
আসছে বর্ষা মৌসুম। প্রতি বছরই এ মৌসুমে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তাইতো এবার বর্ষার আগেই তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে চলছে নৌকা তৈরির ধুম। সেইসঙ্গে মেরামত করা হচ্ছে পুরোনো নৌকাও। তিস্তা তীরবর্তী নৌকার মাঝি, জেলে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় নৌকার ব্যবহার কমে যায়। তবে বর্ষা এলেই তিস্তা হয়ে ওঠে যৌবনা, টইটম্বুর। তখন তিস্তা র্তীরবর্তী বাসিন্দাদের চলা চলের প্রধান বাহন হয়ে ওঠে নৌকা। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় নৌকার কদর। বেড়ে যায় পুরোনো নৌকা মেরামতের ধুম। সরেজমিনে শৌলমারী, কৈমারী, ডাউয়াবাড়ী, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তার তীরবর্তী চর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবাই নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ পুরাতন নৌকা আরও ভালো করে মেরামত করছেন। শৌলমারী বানপাড়া ঘাটের মাঝি আলম বলেন, শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি কম থাকে। এ সময় পুরোনো নৌকাগুলো মেরামত করে নিতে হয়। ইতোমধ্যে আমার একটি বড় নৌকাসহ তিনটি নৌকা মেরামত করে বর্ষার জন্য প্রস্তুত করেছি। ৩ টন ধারণ ক্ষমতার নৌকা মেরামতে বর্তমান সময়ে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। একই নৌকা নতুন করে বানাতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি আরও বলেন,১০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নৌকা তৈরিতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। এ সময় নৌকা কারিগরদের দামও অনেক বেড়ে যায়। হাত হিসেবে নৌকা মেরামতের মজুরি নির্ধারণ হয়। প্রতি হাত নৌকা মেরামতে ১০০ টাকা দিতে হয়। এভাবে প্রতিটি বড় নৌকা মেরামতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা কারিগরদের মজুরি দিতে হয়। এমনকি চলতি মৌসুমে নৌকা মেরামত করে যাওয়ার সময় কারিগরদের আগামী মৌসুমের জন্য অগ্রিম টাকাও প্রদান করতে হয়।ননৌকা কারিগর রশিদুল ইসলাম বলেন, নৌকা তৈরী ও মেরামত আমার পূর্ব পুরুষের পেশা। গত ২০ বছর ধরে এ পেশা ধরে রেখেছি। প্রতি মৌসুমে ছোট-বড় প্রকার ভেদে ২০টি নৌকা তৈরি করে থাকি। পুরাতন নৌকাও মেরামত করি। এখন চলছে নৌকা মেরামতের শেষ সময়। ছোট নৌকা তৈরিতে দুই থেকে চার এবং বড় নৌকা তৈরিতে ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। নতুন নৌকা তৈরিতে বিশেষ করে আকাশমণি, মেহগনি, কড়াই, ছামালিশ গাছ বেশি ব্যবহার হয়। ছোট নৌকা তৈরিতে ১০-১২ হাজার এবং বড় নৌকা তৈরিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা এবং পুরোনো নৌকা মেরামতে নৌকার আকার অনুযায়ী ৫-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাই। জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দিক সাদেক, শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান, বলেন, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই এ সময়ে নৌকা তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। চরের মানুষ শুকনো মৌসুমে তিস্তায় মাছ ধরে এবং কৃষি শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal